নাটোর প্রতিনিধি:
কুপিয়ে জীবন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় মাঝি আরজুকে
নাটোরের চলনবিলে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার হওয়া নৌকার মাঝি আরজু ফকিরকে কুপিয়ে জখমের পর জীবন্ত অবস্থায় বিলের পানিতে ফেলে দেয় তিন হত্যাকারী।
এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী নামে এক হত্যাকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক বায়েজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাসির বোস্তামীর ছেলে।
সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নাটোর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
পুলিশ জানায়, গত ৭/৮ মাস আগে সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে আরজু ও তার এলাকার লোকজন বায়েজিদ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে মেয়ে ঘটিত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। সেসময় আরজু ও তার লোকজন বায়েজিদের বন্ধুদের ধাওয়া করে। তখন থেকেই শত্রুতা তৈরি হয়।
এ ঘটনার জের ধরেই গত ২৬ আগস্ট নৌবিহারের নামে আরজু ফকিরের নৌকা ৭০০ টাকায় ভাড়া করে বায়েজিদ বোস্তামি। পরে ওই নৌকায় গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা এলাকা গিয়ে আরও দুজন ওঠে। এসময় নৌকাটি বিলের ভিতর নিয়ে গিয়ে বায়েজিদ ও তার দুই বন্ধু নৌকার মাঝি আরজু ফকিরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে কুপিয়ে বিলের পানিতে ফেলে দেয়। পরে নৌকা নিয়ে চলে আসে হত্যাকারীরা।
পরের দিন উপজেলার হরদমা এলাকায় আত্রাই নদী থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রক্তমাখা নৌকাটি উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু আরজু ফকিরকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় জিডি করেন তার পরিবার। পরের দিন গত ২৮ আগস্ট গুরুদাসপুরের বিলসা গ্রাম থেকে নৌকার মাঝি আরজু ফকিরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ।
পরে আরজু ফকিরকে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত হলে রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশ হত্যাকারী বায়জিদ বোস্তামিকে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর এক আত্মীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক যুবায়ের, সিংড়া সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার, বড়াইগ্রাম সার্কেল অরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোনায়ারুজ্জামানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply